দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

রংপুর নগরীতে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের তিন সদস্য হত্যার ঘটনাকে সাম্প্রদায়িক হত্যাকাণ্ড নয় বলে মন্তব্য করেছেন জেলার হিন্দু নেতারা। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে মহানগর পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তারা বলেন, মাদকসেবনকে কেন্দ্র করেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।
মহানগর পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সভায় হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট, পূজা উদযাপন পরিষদ, ইসকনসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা অংশ নেন।
হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের ভাইস চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব অধ্যাপক পরিতোষ চক্রবর্তী বলেন, ‘যে হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটেছে, সেটি মাদক সেবন নিয়ে হয়েছে। এটি কোনো সাম্প্রদায়িক হত্যাকাণ্ড নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘৫ আগস্টের পর রংপুরাঞ্চলে হিন্দুরা আক্রান্ত হয়নি। হিন্দু ধর্মের লোকদের ভয় পেলে চলবে না, বড় সাহস নিয়ে দাঁড়াতে হবে।’
সভায় ইসকনের এক প্রতিনিধি উত্তরাঞ্চলে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা এবং মাদক ও অন্যান্য অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আরও কার্যকর ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানান।
পুলিশ কমিশনার মাহবুবুর রশীদ বলেন, ‘এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত করে চার্জশিট দেওয়া হবে। জড়িত কেউই রক্ষা পাবে না। নগরীতে মাদক নির্মূলে এলাকাভিত্তিক কমিটি গঠন করা হবে। এতে প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় লোকজনকে নিয়ে কমিটি গঠন করে এর বিরুদ্ধে জোরালো অবস্থান নেওয়া হবে।’
এ ছাড়া নগরীর বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী সভা আয়োজন ও তৎপরতা বাড়াতে পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন তিনি।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোট। শুক্রবার বিকেলে রংপুর প্রেস ক্লাব চত্বরে মানববন্ধন করে সংগঠনটি। এতে বাংলাদেশ ব্রাহ্মণ সংসদ, সনাতন অধিকার আন্দোলন, বাংলাদেশ হিন্দু যুব মহাজোট, বাংলাদেশ হিন্দু ছাত্র মহাজোট ও বাংলাদেশ ইউনাইটেড সনাতনী অ্যাওয়েকিং অ্যালায়েন্সের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
সংগঠনটির নেতাদের দাবি, একই পরিবারের চারজন হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশের দেওয়া বক্তব্যে মানুষের মধ্যে আস্থা তৈরি হয়নি। তাই সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা প্রয়োজন।
মানববন্ধনে বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি অ্যাডভোকেট সুশান্ত অধিকারী বলেন, ‘দুজন আসামিকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশ দুটি সংবাদ সম্মেলন করেছে। সেখানে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা নিয়ে আলাদা আলাদা বক্তব্য দেওয়া হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘এ হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি শুধু দেশে নেই। হত্যাকাণ্ডটি এখন আন্তর্জাতিকভাবে আলোচনা হচ্ছে। সুতরাং মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি করতে হবে।’
জোটের সমন্বয়ক দীপঙ্কর ভট্টাচার্য বলেন, ‘পুলিশের ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্যে আমাদের মনে হয় এই সন্দেহ তৈরি হচ্ছে, তারা কোনো কিছু ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে কি না। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।’
এর আগে শুক্রবার দুপুরে হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থল গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ি পরিদর্শন করেন মহানগর পুলিশের নতুন কমিশনার মাহবুবুর রশীদ। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘হত্যাকাণ্ড নিয়ে যেসব প্রশ্ন উঠেছে, সেগুলোর পেশাদারিত্বের সঙ্গে জবাব খোঁজাই পুলিশের দায়িত্ব।’
গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে পানি দিয়ে আলামত ধুয়ে ফেলার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ কমিশনার বলেন, ‘আমিও আপনাদের মতোই শুনেছি। একটা ক্রাইম সিন, সেটা সংরক্ষণ করা আছে। আসলে আমার কাছে সুস্পষ্ট কোনো রকম কোনো তথ্য নেই। আমি জয়েন করেছি গতকালই। আপনি বলেছেন, আমি এটা দেখব।’
নগরীতে মাদকের বিস্তার ও নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আগামী এক সপ্তাহ আমি সময় দিয়েছি সবাইকে যে, আপনারা ভিজিবল কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করবেন রংপুর শহরে।’
এর আগে গত ১২ আগস্ট রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদকে রেঞ্জ ডিআইজি হিসেবে পদায়ন করা হয়। এরপর রংপুর মহানগর পুলিশের নতুন কমিশনার হিসেবে মাহবুবুর রশীদ দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
এমএম/